| বঙ্গাব্দ

জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘাত | উত্তাল রাজপথ।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-04-2026 ইং
  • 353772 বার পঠিত
জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘাত | উত্তাল রাজপথ।
ছবির ক্যাপশন: উত্তাল রাজপথ।


দেড় মাসেই রাজপথে সরকার-বিরোধী দল: ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোট নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে মহাকূটনৈতিক সংকট

বিশেষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও পলিটিক্যাল এনালিস্ট)

ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৬: ১২ ফেব্রুয়ারির সেই ঐতিহাসিক নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের রাজপথ। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের বয়স মাত্র দেড় মাস। কিন্তু ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে সরকারি দল ও ১১ দলীয় বিরোধী জোটের (জামায়াত-এনসিপি জোট) মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন সংসদ ছাড়িয়ে রাজপথে গড়িয়েছে।

১. গণভোটের রায় বনাম সংসদীয় সার্বভৌমত্ব: একটি ঐতিহাসিক সংঘাত

১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে দেশের ৬৮ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ জয়ী করার মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জটিলতাগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

  • বিরোধী দলের অবস্থান: জামায়াত ও এনসিপি-সহ ১১ দলীয় জোটের দাবি, জনরায় অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে আলাদা শপথ নিতে হবে। তারা মনে করছেন, বিএনপি সরকার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনরায়কে উপেক্ষা করে কেবল নিজেদের পছন্দমতো কিছু সংশোধনী আনতে চায়।

  • সরকারি দলের অবস্থান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের মতে, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ একটি অস্তিত্বহীন ধারণা এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। বিএনপি চায় ‘সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি’র মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করতে।

ঐতিহাসিক তুলনা: বাংলাদেশের ইতিহাসে গণভোটের (Referendum) অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর নয়।

  • ১৯৭৭ ও ১৯৮৫-এর গণভোট: অতীতে জিয়াউর রহমান এবং এরশাদ সরকারের আমলে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল মূলত নিজেদের ক্ষমতাকে বৈধতা দিতে।

  • ২০২৬-এর ভিন্নতা: ২০২৬ সালের গণভোটটি ছিল একটি ‘আদেশ’ বা ‘সনদ’ (জুলাই সনদ) অনুমোদনের জন্য। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম গণভোটের আইনি বৈধতা এবং সংসদীয় এখতিয়ার নিয়ে এমন জটিল আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।

২. আইনি গোলকধাঁধা: অধ্যাদেশ বাতিল ও হাইকোর্টের রুল

বৃহস্পতিবার সংসদীয় কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের সেই ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ বাতিলের সুপারিশ করেছে।

  • সংকট: অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদের মতে, অধ্যাদেশটি ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে পাস না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে, যা পুরো গণভোটের নৈতিক ভিত্তিকেই নাড়িয়ে দিতে পারে।

  • ভিন্নমত: তবে ব্যারিস্টার আহসানুল করিম মনে করেন, অধ্যাদেশের কাজ (গণভোট আয়োজন) যেহেতু শেষ, তাই এটি আইনে রূপ না নিলেও গণভোটের ফল বাতিল হবে না।

  • বিচার বিভাগ: ৩ মার্চ হাইকোর্ট এই পরিষদের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করায় বিষয়টি এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে আছে।

৩. রাজপথে ১১ দলীয় জোট: কঠোর আন্দোলনের আল্টিমেটাম

আগামী শনিবার বিকেল ৫টায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ সরকারকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন:

“সরকার গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে, যা রক্তাক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা যেভাবে সাংবিধানিক স্বৈরাচার হয়েছিল, বর্তমান সরকারও সেই পথেই হাঁটছে।”

বিডিএস অ্যানালাইসিস: জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি প্রথম বড় ‘আদর্শিক ফাটল’। বিএনপি যেখানে সংসদীয় পদ্ধতির শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে চায়, সেখানে জামায়াত ও এনসিপি জোট ‘বিপ্লব পরবর্তী বিশেষ সংস্কার’ কাঠামোতে অনড়। ১১ দলের এই আন্দোলন যদি তীব্র হয়, তবে নবগঠিত বিএনপি সরকারের জন্য এটি হবে প্রথম অগ্নিপরীক্ষা।


গণভোট ও জুলাই সনদ: এক নজরে পরিসংখ্যান ও সংকট

ক্যাটাগরিতথ্য/পরিসংখ্যান
মোট ভোটার১২ কোটি ৭৭ লাখ
ভোট পড়েছে৬০.২৬%
‘হ্যাঁ’ ভোট৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন (৬৮%)
মূল দাবি১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন
সরকারের পাল্টা পদক্ষেপসর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি গঠন (রোববারের মধ্যে)

৪. কেন এই সংকট ‘জুলাই চেতনা’র জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?

২০২৬ সালের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা মূলত ‘সংস্কার’ বনাম ‘সংশোধন’—এর লড়াই।

  • সংস্কার (জামায়াত-এনসিপি জোট): তারা চায় পুরো সংবিধানকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে, যা গণভোটে অনুমোদিত হয়েছে।

  • সংশোধন (বিএনপি সরকার): তারা চায় বিদ্যমান সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে।

উপসংহার: আদালতের বারান্দা নাকি রাজপথ?

৭ এপ্রিল বিরোধী জোটের বৈঠক থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের রূপরেখা আসার কথা রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি রোববার সংসদীয় কমিটি গঠন করে তাদের কাজ শুরু করতে চায়। বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে এমন কোনো নজির নেই যেখানে গণভোটের রায় নিয়ে সংসদ ও রাজপথ একই সাথে উত্তপ্ত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই সংকটের সমাধান সম্ভবত সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমেই হতে হবে। তবে রাজপথের উত্তাপ যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে জুলাই অভ্যুত্থানের সুফল ম্লান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency